Homeআন্তর্জাতিকতালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল রাশিয়া, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন কূটনৈতিক পর্বের সূচনা

তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল রাশিয়া, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন কূটনৈতিক পর্বের সূচনা

রাশিয়া তালেবান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি কূটনৈতিক দ্বিমুখা সম্পর্কের নতুন পর্ব শুরু করল। মস্কো তাদের ‘ইসলামিক আমিরেট অব আফগানিস্তান’ সরকারের নতুন রাষ্ট্রদূতের কাগজপত্র গ্রহণ করেছে জুলুয়া জুলাই মাসের ৩ তারিখে, এবং এর মাধ্যমে রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে তালেবানকে সরকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে । রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা—বিশেষ করে জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে—গতি পাবে ।

বিগত এপ্রিল মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে তাদের “সন্ত্রাসী সংগঠন” তালিকা থেকে বাদ দেয়—তারপরই মস্কো কাবুলের সঙ্গে সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করেছে এবং উপর্যুক্ত বৈঠকগুলোতে তালেবানকে “সন্ত্রাসবিরোধী মিত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছে । রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ বলেন, আফগানিস্তানের নতুন বাস্তবতাকে চিন্তাভাবনায় বুঝে সহায়ক নীতি নিতে হবে, কারণ তারা ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয়’ ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ একদিকে অঞ্চলে ইউএস প্রভাব হ্রাসের মধ্য দিয়ে নিজস্ব প্রভাব বাড়ানোর কৌশল; অন্যদিকে আইএস-কে (ISIS-K) জাতীয় সন্ত্রাসের মোকাবিলায় তালেবানকে অংশীদার হিসেবে দেখার একটি প্রদর্শনী । আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এটিকে “সাহসী পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, রাশিয়া যেন অন্য দেশগুলোকে অনুকরণে উদ্বুদ্ধ করে ।

তবে পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো তালেবানের অধীনে নারীদের শিক্ষাগত ও নাগরিক অধিকার ও চলাচলের ওপর সীমাবদ্ধতা, কঠোর শরিয়া আইন, সন্ত্রাস দমন নীতিসহ নানা কারণে এখনও স্বীকৃতি দিতে নারাজ । এই অবস্থায় রাশিয়া তালেবানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের বিচ্ছিন্নতা কিছুটা দূর করেছে, তবে মানবাধিকার ভিত্তিক সমালোচনার সেই ছায়া সুরক্ষিত রয়েছে।

🌐 সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার স্বীকৃতি কৌশলগত ও প্রাকটিক্যাল: এটি ইউরেশিয়ায় প্রভাব বাড়ানো, সন্ত্রাসবিরোধ নিয়ে অবস্থান সুদৃঢ় করা, এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পথ প্রসারিত করা—যা কিনা মস্কোর জন্য লাভজনক কূটনৈতিক অভিগমন। তবে বাইরের চাপে তালেবানের মানবাধিকার নীতিগুলোর পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বিশাল স্বীকৃতি এবং সহযোগিতার পথ এখনো বন্ধ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

spot_img