সরকার বারবার বলছে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, তবুও ‘তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে’—এমন আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইনের দেখা মিলছে। অনেক জায়গায় গ্রাহক ও বিক্রেতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুদ ঠেকাতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশজুড়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যদিও সীমিত পরিমাণ অকটেন আমদানি করা হয়, তবুও এর বড় একটি অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়।
বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি ভারত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকেও ডিজেল আমদানি করা হয়।

দেশের সংরক্ষণ সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বছরে প্রয়োজনীয় পুরো জ্বালানি একসঙ্গে মজুদ রাখা সম্ভব নয়। বরং চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে তেল আমদানি, সরবরাহ ও ব্যবহার—এই চক্রের মাধ্যমেই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় মার্চ মাস থেকেই বাংলাদেশে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি বা রেশনিং চালু করা হয়েছে।
সরবরাহ এখন মূলত আগের বছরের মাসভিত্তিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি—মার্চ মাসের মতো এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি হবে না।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি।



