জেডি ভ্যান্স নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা বৈঠক সত্ত্বেও দুই পক্ষ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে নিশ্চিত করেছে উভয় দেশ।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের “রেড লাইন” বা অনড় শর্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, তবে ইরান সেগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরান আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ করবে।”
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর জামাতা ও উপদেষ্টা Jared Kushner এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত Steve Witkoff। আলোচনা শেষে মার্কিন প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei যুক্তরাষ্ট্রের ওপর “অতিরিক্ত দাবি” তোলার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে বাস্তববাদী অবস্থান নিতে হবে।

এই বৈঠকটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হয়, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং তথাকথিত “ইরান যুদ্ধ” পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। যদিও এই আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত নিরসনের কোনো অগ্রগতি হয়নি, তবুও কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।
এদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনার আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “এই আলোচনা যে পর্যায়ে হয়েছে, তার জন্য পাকিস্তান তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে।” এতে ইঙ্গিত করা হয় Shehbaz Sharif সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থ বৈঠক ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তবে আলোচনার দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—এমনটাই ধারণা কূটনৈতিক মহলের।



