লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সৌদি আরব থেকে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাবা মাসানুর রহমান, মা, এবং তাদের দুই কন্যা। তাদের সঙ্গে থাকা গাড়ির চালকও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

ঘটনা ঘটে জেদ্দা থেকে আবহা শহরের দিকে যাত্রাকালে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি লরি ও পরিবারসহ থাকা গাড়ির সংঘর্ষের কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ১১ বছর বয়সী ফাইজা আক্তার, যিনি বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার অবস্থা স্থিতিশীল।
রামগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশ ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। স্থানীয় কমিউনিটি এবং সামাজিক সংগঠনগুলো নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
এ দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ত্রুটির দিকে সর্তক করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের সময় দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালানো এবং ভারি যানবাহনের সঙ্গে সাধারণ গাড়ির সংঘর্ষ এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা আরও উল্লেখ করেছেন, সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সড়ক উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় কমিউনিটি, বিদ্যালয় ও মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদেহ দেশে দ্রুত ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেশের সকলকে সতর্ক করছে যে সড়ক নিরাপত্তা কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করা যায় না। নিহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং আহত ফাইজা আক্তারের দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া কামনা করা হচ্ছে।




