আজ দেশের আকাশে দেখা যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম আংশিক সূর্যগ্রহণ, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণটি স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এ সময় চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের একটি অংশ আড়াল করে ফেলায় সূর্যের গোলাকার আকৃতিতে স্পষ্ট খণ্ডিত রূপ দেখা যাবে। দেশের অধিকাংশ অঞ্চল—ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে—আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গ্রহণটি আংশিকভাবে দৃশ্যমান হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সূর্যগ্রহণের সময় খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই গ্রহণ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সোলার ফিল্টারযুক্ত চশমা, পিনহোল প্রজেক্টর বা অনুমোদিত টেলিস্কোপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান ক্লাব রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে উন্মুক্ত পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে, যেখানে নিরাপদ উপায়ে গ্রহণ দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন, সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে এমন অবস্থানে আসে যে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। তবে চাঁদের কক্ষপথ সামান্য হেলে থাকার কারণে প্রতিবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে না; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আংশিক গ্রহণ দেখা যায়। আজকের গ্রহণটিও তেমনই একটি আংশিক গ্রহণ, যেখানে সূর্যের সম্পূর্ণ অংশ আচ্ছাদিত হবে না।
এ ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই গ্রহণের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন, যা ঘটনাটিকে ঘিরে জনমনে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য—উৎসাহ থাকলেও নিরাপত্তা বিধি মানাই সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।




