বুধবার বিশ্ববাজারে রুপার দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৬৬ ডলারের ঘর স্পর্শ করে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী ছিল স্বর্ণের দামও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৯৪ ডলারে লেনদেন হয়। সেশনের শুরুতে ধাতুটির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৫২ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প খাতে চাহিদা বৃদ্ধি, মজুদ কমে আসা, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হিসেবে স্বীকৃতি এবং বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান অনুমানভিত্তিক আগ্রহ—এই সবকিছু মিলেই রুপার দামে এই উল্লম্ফনের কারণ।

স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘রুপা এখন বিকল্প বাজারে জল্পনা-কল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিছু সুস্পষ্ট বাস্তবতার ভিত্তিতেই এর চাহিদা বাড়ছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সবুজ জ্বালানি কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পাশাপাশি সরবরাহ ঘাটতি ও মৌসুমি বিনিয়োগ প্রবাহও রুপার দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।’
অন্যদিকে, বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩১৭ দশমিক ৬৫ ডলারে। একই সময়ে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৭ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে ১২৮ শতাংশ এবং স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। এর আগে, গত ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছায়, যা বছরে ৫৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় স্বর্ণের দামে সাময়িক চাপ দেখা যায়।
তবে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, দুর্বল আর্থিক নীতি ও ধারাবাহিক বাজেট ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস আরও বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে গড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলার এবং ২০২৭ সালে ৫ হাজার ১০০ ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।



