লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সোনাপুর চৌরাস্তা এলাকার পেট্রোল পাম্পকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন ভোগান্তি। তেল সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আটিয়া বাড়ি এলাকায় পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত চালক লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে করে কর্মজীবী মানুষ, জরুরি সেবা প্রদানকারী এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্পে তেলের সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় এ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্র অতিরিক্ত মজুত ও কালোবাজারির মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেক চালক প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করায় লাইনের চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তদারকি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। অনিয়ম রোধ ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি শুধু রামগঞ্জের নয়—এটি বৃহত্তর জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবেও দেখা দিচ্ছে।



