নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ীর আংশিক) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান তিন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুজনই কোটিপতি ব্যবসায়ী হলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র জামায়াত প্রার্থীর ক্ষেত্রে। জামায়াতের প্রার্থী জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ দান-অনুদানের ওপর নির্ভর করেই নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট তিন প্রার্থী হলেন—বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মো. মফিজুর রহমান এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ।
হলফনামা অনুযায়ী, এমএ পাস বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক একজন ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক আয় ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা। অন্যদিকে এসএসসি পাস স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, যার বার্ষিক আয় তিন কোটি ৮২ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা। বিপরীতে কামিল পাস জামায়াত প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমদ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, যার বার্ষিক আয় মাত্র ৩০ হাজার টাকা।
সম্পদের হিসাবে জয়নুল আবদিন ফারুকের রয়েছে বর্তমান বাজারমূল্যে ১৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং চার লাখ ৮০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ। কাজী মো. মফিজুর রহমানের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪১ কোটি ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৭ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ রয়েছে আট কোটি ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৯ টাকার। অপরদিকে মাওলানা সাইয়েদ আহমদের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৯ টাকা এবং তিনি ২২ শতাংশ কৃষিজমির মালিক, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
নগদ ও ব্যাংক জমার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় পার্থক্য। জয়নুল আবদিন ফারুকের কাছে নগদ রয়েছে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৩ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ১০৪ টাকা। কাজী মো. মফিজুর রহমানের নগদ অর্থ দুই কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৪ টাকা। জামায়াত প্রার্থীর কাছে নগদ আছে চার লাখ ৫ হাজার ৭৩০ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে তিন লাখ ৭৬ হাজার ৯ টাকা।

আয়ের খাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, জয়নুল আবদিন ফারুক চাকরি থেকে বছরে ২৪ লাখ টাকা আয় করেন। এছাড়া ব্যাংক সুদ ও সম্মানী ভাতা থেকে পান চার লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা। কাজী মো. মফিজুর রহমান কৃষিখাত, ভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানীসহ নানা খাত থেকে আয় করেন। এর মধ্যে শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকেই তার আয় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি।
অন্যদিকে মাওলানা সাইয়েদ আহমদের একমাত্র আয়ের উৎস কৃষিখাত, যেখান থেকে তিনি বছরে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পান। তবে নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে তিনি আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সম্ভাব্য অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন তার ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, শ্যালক গোলাম মর্তুজা, বেয়াই ইতালি প্রবাসী মাঈন উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী। এসব উৎস থেকে তিনি মোট প্রায় ৩১ লাখ টাকার অনুদান পাওয়ার আশা করছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে ১১টি মামলা এবং জামায়াত প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমদের বিরুদ্ধে রয়েছে ৯টি মামলা।
জয়নুল আবদিন ফারুক সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। কাজী মো. মফিজুর রহমান একই উপজেলার পরিকোট এলাকার বাসিন্দা। মাওলানা সাইয়েদ আহমদ সোনাইমুড়ী উপজেলার পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নোয়াখালী-২ আসনে এ তিনজন ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬০ হাজার ৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ৩০৬ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১১টি এবং ভোটকক্ষ ৭০০টি।



