জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ২৬ বছর বয়সি আবদুল হান্নান মাসউদের সম্পত্তি তার বাবার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। আয়ও বাবার তুলনায় তিন গুণের বেশি। তবে আবদুল হান্নান মাসউদের আয় ব্যবসা থেকে হলেও, তার বাবার আয়ের মূল উৎস কৃষি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে হান্নান মাসউদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একই আসনে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তারা আলাদা দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—হান্নান মাসউদ জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে, আর আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে।

হলফনামা বিশ্লেষণ reveals, হান্নান মাসউদ তার ব্যবসা থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ছয় লাখ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে: ব্যাংকে জমা ২,০৫৫ টাকা, কোম্পানির শেয়ার এক লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার আট লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এক লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র এক লাখ টাকা। স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীকে শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তার নামে কোনো সম্পদ বা দায়-দেনা নেই।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে জমা দেওয়া হান্নান মাসউদের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। হান্নানের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা আলিম পাস। তিনি ঢাকার পরিবাগ এলাকায় “ডিজিল্যান্তি গ্লোবাল” নামে একটি ব্যবসার মালিক এবং তার পেশা হল ব্যবসা। স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সাঘরিয়া গ্রামে। তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
অপরদিকে, ৬৩ বছর বয়সি আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে মোট আয় ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা। এছাড়া কৃষি থেকে তিনি বছরে দুই লাখ টাকা আয় করেছেন। তিনি এক স্ত্রী, চার মেয়ে ও তিন সন্তানের জনক।
বাবা-ছেলের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নজর কাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের কাছে নতুন ধরনের রাজনৈতিক সচেতনতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার ধারণা তুলে ধরে। হান্নান মাসউদের ব্যবসা ভিত্তিক আয়ের পরিমাণ এবং সম্পদ বাবার তুলনায় বেশি হলেও, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে আবদুল মালেকের প্রভাবও কম নয়।
নির্বাচনী সমীক্ষা অনুযায়ী, ভোটাররা প্রার্থীর পারিবারিক পরিচয়, সম্পদ ও আয়ের উৎস, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক দক্ষতা—সবকিছুকেই গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিচ্ছেন। এই নির্বাচনে বাবা-ছেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



