দেশজুড়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। রোববার (গতকাল) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া ঝড়ো আবহাওয়া ও বজ্রপাত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বিপর্যয় ডেকে আনে।
গাইবান্ধা:
জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিকেলে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জন নিহত হন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে তিন কিশোর-যুবক—ফুয়াদ (১৪), রাফি (১৫) ও মিজান (২০)—বজ্রাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার জামিরা চরে মানিক হোসেন (২২) বজ্রপাতে মারা যান, তিনি ঘোড়া নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন; ঘটনাস্থলেই ঘোড়াটিও মারা যায়। সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নে নম্বার আলী (৬৫) পৃথক ঘটনায় নিহত হন।

সিরাজগঞ্জ:
তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুই কৃষক—আব্দুল হামিদ (৫০) ও হাসান আলী (২৪)—নিহত হন। তারা বৃষ্টির মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন।
ঠাকুরগাঁও:
পীরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে সেলিনা আক্তার ও ইলিয়াস আলী (৩৭) নিহত হন। একজন মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে এবং অন্যজন জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
জামালপুর:
সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মর্জিনা বেগম (৪০) বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় এবং কৃষক হাসমত আলী (৪৫) মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে নিহত হন।
পঞ্চগড়:
আটোয়ারী উপজেলার একটি চা-বাগানে কাজ করার সময় সোহরাওয়ার্দী (৩৫) নামে এক শ্রমিক বজ্রপাতে নিহত হন। একই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বগুড়া:
গাবতলী উপজেলার মুচিখালী গ্রামে সুমন (৩৫) নামে এক যুবক ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।

নাটোর:
সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় ধান কাটার সময় সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিক বজ্রপাতে নিহত হন।
আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সতর্কতা:
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কালবৈশাখী মৌসুমে এ ধরনের বজ্রঝড় স্বাভাবিক হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু স্থানে অবস্থানকারী মানুষ বজ্রপাতে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার ওপর জোর দিয়েছেন। ঝড়-বৃষ্টির সময় মাঠে কাজ, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া, কিংবা ধাতব বস্তু বহন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।



