Homeসর্বশেষমেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে হাসপাতাল চালানোর দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা

মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে হাসপাতাল চালানোর দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অভিযোগে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বসুরহাট এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বসুরহাট প্রাইভেট হাসপাতাল এবং সালেহা প্যাথলজি অ্যান্ড আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেন্টার মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময় অন্তর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখতে হয়। অভিযানে দেখা যায়, দুই প্রতিষ্ঠানই এই মূল বিধিবিধান দীর্ঘদিন ধরে অমান্য করে আসছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল ও প্যাথলজি সেন্টার দুটিতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে না করা, অস্বাস্থ্যকর বাতাবরণে রোগীদের সেবা প্রদান, এবং অনুমোদনবিহীন পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর মতো গুরুতর অনিয়মও ধরা পড়ে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তদন্তে এগুলো নিশ্চিত হওয়ার পর বসুরহাট প্রাইভেট হাসপাতাল ও সালেহা প্যাথলজিকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয় যেন ভবিষ্যতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া তারা কোনোভাবেই চিকিৎসা বা ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা না করে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, “হাসপাতাল দুটির কাগজপত্র সঠিক ছিল না। লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার পরও সেবা চালিয়ে যাওয়া আইন লঙ্ঘনের শামিল। জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের অনিয়ম আমরা মেনে নিতে পারি না।” তিনি আরও জানান, নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলার সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং অনিয়ম পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, অপ্রতুল তদারকি এবং দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির অভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে শুধু রোগীর নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে না, বরং স্বাস্থ্যসেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের এই অভিযান অন্যান্য অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্স নবায়ন না করা কিংবা মেডিকেল বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর হুমকি সৃষ্টি করে। এসব বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি না হলে পরিবেশ দুষণসহ নানা সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটতে পারে। একইসঙ্গে অনুমোদনবিহীনভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা সেবা দিলে রোগীরা ভুল রিপোর্ট, ভুল চিকিৎসা কিংবা মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা আশা করছেন, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ অঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে অননুমোদিত ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যাবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অনিয়মের সংস্কৃতি কমে আসবে এবং জনগণ নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও আশ্বস্ত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

spot_img