জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বাজারে এক পথসভায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, “অনেকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চাচ্ছে, টিকেট বিক্রি হচ্ছে। এসব দিয়ে কাজ হবেনা।” তাঁর বক্তব্য নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার ও ভোটপ্রক্রিয়ায় নৈতিকতার অভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেএসডি-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সভায় তানিয়া রব কোম্পানীগঞ্জের জিরো পয়েন্টে উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের, স্বাধীনতার পক্ষের। মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে বুকে লালন করে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ও স্বাধীনতার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখব। এমন একটি ওয়াদার মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে চাই। ভোটাররা এটি বিবেচনা করবেন কারণ তারা স্বাধীনতাকে ভালোবাসেন।

Tax VAT Business Consultants ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতাদের আয়কর, ভ্যাট এবং ব্যবসায়িক বিষয়ক পরামর্শ, আয়কর রিটার্ন দাখিল ও প্রশিক্ষণ সেবা প্রদান করে। http://taxvatbusiness.tch24.com facebook.com/TVBC20
যোগ্যতা ও সেবার ভিত্তিতে এমপি নির্বাচন: তানিয়া রব বলেন, “ত্রয়োশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু পার্লামেন্টে যাওয়ার নির্বাচন নয়। যদি আমরা পারিশ্রমিক, ব্যাংক ব্যালেন্স বা বেগমপাড়া করতে আসা অমানুষদের এমপি হিসেবে নির্বাচিত করি, তাহলে জনগণের কোন উন্নয়ন হবে না। আমাদের এমন এমপি দরকার, যারা দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করবে।” তিনি আরও যুক্তি দেন, শুধু পার্টি মার্কা দেখে প্রার্থী বাছাই করলে জনগণের সেবা ও দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
নির্বাচনী সংস্কার ও প্রশাসনিক সুপারিশ: এয়োদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তানিয়া রব বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “যারা দলবাজি করছে, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে নানা রকম হাবভাব দেখাচ্ছে, তাদের প্ররোচনায় বা সুপারিশে কোনো নিয়োগ হলে আমরা মানবনা। আমাদের চায় প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও ন্যায্য প্রক্রিয়া।” তানিয়া রব আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতায় আসার আগে যারা ভাগ বাটোয়ারা, হাট, মাঠ, ঘাট, বাসস্থান দখল নিয়ে ব্যস্ত, তারা আসলে জনগণের জন্য কিছু করতে পারবে না। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের এমপিদের উদাহরণ টেনে বলেন, “পালিয়েছে, চুরি করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, আয়না ঘর করেছে, গুম করেছে। তাদের বিচার তো এ মাটিতেই হবে।”
পূর্ববর্তী চাঁদাবাজি ও স্বচ্ছ নির্বাচনের আহ্বান: তিনি বলেন, “এক বছর আগের ঘটনা ভুলে যাচ্ছেন কেন? মানুষের কাছে কেন কথা দিচ্ছেন না যে সুষ্ঠু, সৎ এবং আদর্শের কাজ করবেন?” তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে যেখানে চাঁদা ছিল ১শ টাকা, এখন তা বেড়ে ২শ টাকায় গেছে। এই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পেতে হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তানিয়া রব সাধারণ জনগণের আস্থাভাজন, ন্যায্য ও দায়িত্বশীল নির্বাচনের জন্য সজাগ।
নেতৃত্ব ও পার্টির উপস্থিতি: সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং নোয়াখালী-৫ আসনে তারা মার্কার প্রার্থী কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জেএসডি নেতা মো. আলাউদ্দিন, কাজল হাজারী, মাহবুবুর রশীদ আল মামুন, মো. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ। এই অংশগ্রহণ দলটির একতা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
ধর্ম, ভোট এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার: তানিয়া রবের বক্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়; এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক ও নৈতিক আহ্বান। নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা প্রচলিত সমস্যা। তানিয়া রব স্পষ্টভাবে বলছেন, ধর্ম বা পার্টি প্রভাবের ভিত্তিতে ভোট বা প্রার্থীর নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। তিনি ভোটারদের মনে করিয়ে দেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা ও ন্যায্যতার মূল্য অপরিসীম। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে এবং স্বচ্ছ, সৎ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
তানিয়া রবের পথসভা একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে: ভোটব্যবস্থা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নৈতিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। ধর্মকে প্ররোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কোনো সুবিধা নেওয়া বা টিকেট দেওয়া জনগণের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাঁর আহ্বান একটি সুস্থ ও জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



