পবিত্র রমজানের শেষ দশক শুরু মানেই লাইলাতুল কদর তালাশের সময় শুরু। ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ মহিমান্বিত ও বরকতময় রজনী, যে রাতে মানবজাতির তাকদির নির্ধারণ হয় এবং কোরআন নাজিল হয়। এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে কোরআনে ঘোষণা রয়েছে (সূরা কদর ১-৫)।
এই রাতের গুরুত্ব:
- কোরআনের বর্ণনায়, এই রাত বরকতময় ও শ্রেষ্ঠতম (সূরা দুখান: ৩-৮)।
- ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে নেমে আসেন।
- সারা রাত জুড়ে থাকে শান্তি, যা ফজরের সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
হাদিসের আলোকে:
- লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর একটিতে।
- বিশেষ করে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখে সন্ধানের নির্দেশ রয়েছে।
- রাসূল (সা.) বলতেন, “তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ করো।” (বুখারি: ২০১৭)
আমাদের করণীয়:
- বেশি বেশি ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করা।
- ক্ষমা চাওয়ার দোয়া পাঠ করা:
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।”
(অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।) - তওবা ও আত্মশুদ্ধি করা—অন্তর থেকে গুনাহ ত্যাগ, অনুতাপ, প্রতিজ্ঞা এবং মানুষের হক আদায় করা।
- সম্ভব হলে গোসল করে ইবাদতে মনোনিবেশ করা।
- রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফে অংশগ্রহণ করা।
মূল বার্তা:
লাইলাতুল কদর বছরে একবার আসে, কিন্তু এর মহান নিয়ামত—কোরআন—চিরকাল আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। সঠিকভাবে এর মর্যাদা দিতে হলে কোরআনের পথে চলা ও নবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করাই হবে প্রকৃত আমল।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।



