নুরুল হক, যিনি নুরাল পাগলা নামে পরিচিত, তাকে অনেক অনুসারী একজন আধ্যাত্মিক গুরু, অলৌকিক শক্তির অধিকারী ব্যক্তি ও ‘পীর’ হিসেবে মানতেন। মৃত্যুর পর তার ভক্তরা তাকে সাধারণ কবরের বদলে মাটি থেকে উঁচু করে কাবা শরিফের আদলে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় দাফন করেন এবং কবরটি বিভিন্ন রঙে সাজানো হয়। এই কর্মকাণ্ডকে ইসলাম ধর্মের মূল আকীদা ও শরিয়তের বিরুদ্ধে মনে করেন অনেক আলেম ও ধর্মীয় নেতা।

তাদের মতে, কোনো মানুষের কবরকে পবিত্র কাবার মতো তৈরি করা এবং সেটিকে কেন্দ্র করে পূজা বা অতিরিক্ত ভক্তি প্রদর্শন করা শিরকের উপসর্গ হতে পারে। এ কারণে তারা এটিকে ‘বিদআত’ ও ‘ধর্মদ্রোহী’ কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং নুরুল হকের কবর ও দরবার সরিয়ে ফেলার দাবি তোলেন। তাদের দৃষ্টিতে, ইসলাম এমন সব কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে, যাতে মৃত ব্যক্তিকে অতিমানবীয় রূপ দেওয়া হয় বা ধর্মীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে তাকে কেন্দ্র করে আলাদা ধ্যান-ধারণা তৈরি হয়। এই ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাস থেকেই শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সহিংসতার রূপ নেয়, যার ফলে তার কবর খুঁড়ে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে। তাই মূলত ধর্মীয় বিরোধ, শরিয়তবিরোধী বিবেচনা এবং অতিভক্তির চর্চাকে কেন্দ্র করেই তাকে পুরানো ও ধ্বংস করা হয়।

৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর “তৌহিদি জনতা” নামে পরিচিত একটি গ্রুপ পূর্বঘোষিত সমাবেশ শেষে সহিংসভাবে দরবারে হামলা চালায়। তারা দরবারসহ আশপাশের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং নুরুল হকের কবর ভেঙে মরদেহ উত্তোলন করে পদ্মা মোড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সংঘর্ষে কমপক্ষে একজন নিহত ও ৫০-১০০ জনের বেশি আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ঘটনায় গোয়ালন্দ থানায় অজ্ঞাতনামা ৩৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই বর্বর ঘটনাকে “অমানবিক ও আইনবিরোধী” বলে নিন্দা জানায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়, ধর্মীয় সহনশীলতা ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এবং ঘটনাটি দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক ভয়ংকর উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।



