টিনের ছাউনির ছোট একটি ঘর। সেখানে বেড়ে উঠছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ফুটবল তারকা—মাত্র ৫ বছর বয়সী এক ক্ষুদে খেলোয়াড়, নাম সোহান। পায়ে বল নিয়ে যখন সে মাঠে নামে, তখন বোঝার উপায় নেই—এই শিশু আসলে দরিদ্র পরিবারের সন্তান। গতি, ড্রিবলিং, বল কন্ট্রোল—সবকিছুতেই যেন ক্ষুদে লিওনেল মেসির প্রতিচ্ছবি।
পাশের লোকজন ভালোবেসে তাকে এখনই ডাকতে শুরু করেছে “বাংলাদেশের মেসি” নামে।
ফুটবলের প্রথম পাঠ বাবার কাছেই
সোহানের প্রথম কোচ আর প্রেরণার নাম—সোহেল প্রথান, তার বাবা। পেশায় একজন সাইকেল মেকানিক হলেও বাবার সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি ছেলের স্বপ্নের পাশে নিরলস দাঁড়িয়ে আছেন। ভোরবেলা ঘুম থেকে তুলে মাঠে নিয়ে যান সোহানকে। নিজের হাতে শিখিয়ে দেন ফুটবলের নানা কৌশল।
সংসার চলে অল্প আয়ে, কিন্তু সন্তানের স্বপ্ন পূরণে কোনো কার্পণ্য রাখেননি এই বাবা। ভালো বল, ভালো জুতা, বা প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা না থাকলেও সোহান যেন নিজের মেধা দিয়েই ফুটবলের ম্যাজিক তৈরি করে।
মাঠে নামলেই অন্য এক সোহান
স্কুল শেষে ছুটে যায় স্থানীয় মাঠে। হাতে ফুটবল, পায়ে ধুলোমাখা স্যান্ডেল—তবুও সোহানের খেলা দেখে মুগ্ধ সবাই। কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই মন্তব্য করছেন—এই শিশুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ স্ট্রাইকার।
স্থানীয়রা বলছেন “আশ্চর্য প্রতিভা”
একজন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক বলেন, “এই বয়সে এমন নিয়ন্ত্রণ, গতি আর কৌশল আমি আগে দেখিনি। সোহান ঠিকমতো প্রশিক্ষণ পেলে একদিন জাতীয় দলে খেলবেই। আমাদের দায়িত্ব এখন তাকে সেই সুযোগ করে দেওয়া।”
সম্ভাবনা যেন হারিয়ে না যায়
তবে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে একটা উদ্বেগও রয়েছে। তারা বলছেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক প্রতিভা জন্ম নেয়, কিন্তু দারিদ্র্য, অবহেলা ও প্রশিক্ষণের অভাবে সেগুলো হারিয়ে যায়। সোহানের মতো খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি পর্যায় থেকে যথাযথ সহায়তা দরকার।

সোহানের স্বপ্ন
সোহান নিজেই বলে, “আমি একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলব। গোল করব। দেশের জয় এনে দেব।” তার চোখেমুখে মেসির মতো হওয়ার স্বপ্ন,আর বাবার মুখে শান্ত গর্বের হাসি।
সোহানের গল্প শুধু একটি প্রতিভার নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর ভালোবাসার গল্প। এখন প্রয়োজন—এই স্বপ্নটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য দেশের ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক এগিয়ে আসা।



