জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র দুই দিন দূরে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশে নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রশাসনিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কয়েক সপ্তাহের প্রচার কার্যক্রম। এখন পুরো দেশের নজর একটাই— ভোটের দিন জনগণের রায়।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি : নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট, নির্বাচনী সরঞ্জাম ও জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট চলবে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রভিত্তিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি : নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত সতর্কতা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে কিছু এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা : নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটের আগে নির্ধারিত সময় থেকে সভা, মিছিল, পোস্টার টানানো ও মাইক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রশাসন জানিয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটারদের প্রত্যাশা : ভোটকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, এবারের নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোটারদের প্রত্যাশা— শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ : নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের নজরও রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পর্যবেক্ষকরা ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সব প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে— এমন প্রত্যাশায় ভোটের দিনের অপেক্ষায় দেশবাসী।



