বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নোয়াখালী অঞ্চল, আর সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ নামে একটি নতুন দল আত্মপ্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে নোয়াখালী নামের একটি দলকে বিপিএলের মতো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি–টোয়েন্টি লিগে দেখতে পাওয়াটা ইতোমধ্যেই অঞ্চলটির মানুষের মধ্যে এক বিশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ২৬ ডিসেম্বর মাঠে পর্দা উঠবে এবারের আসরের, আর তার আগেই দলটি নিজেদের পরিচিতি, ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করতে জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।

কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল—‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকের মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় হওয়া ‘কাবিলা’ চরিত্রের অভিনেতা পলাশ নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মুখ হতে যাচ্ছেন। অবশেষে সেই গুঞ্জন সত্য হয়েছে। দলটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে একটি উৎসবমুখর পোস্ট দিয়ে ঘোষণা দেয় যে, বিপিএল ২০২৫ মৌসুমে পলাশই তাদের অফিসিয়াল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। ঘোষণার পোস্টটিও ছিল নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষার স্বকীয়তায় ভরা—“ওরে রোকেয়ারে তুই কোনাই? আইতো নোয়াখালী এক্সপ্রেসে করি বিপিএলে চলি আইছি!”—যা মুহূর্তেই ভক্তদের মন জয় করে।
ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে পলাশ জানান, তিনি যেমন তার ব্যক্তিগত জীবনে সবসময় “রক অ্যান্ড রোল” মেজাজে থাকেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেসও ঠিক সেই একই উদ্যমে খেলবে। তিনি বলেন, আসন্ন বিপিএলে শুধু মাঠের খেলা নয়, গ্যালারিতেও তার নিয়মিত উপস্থিতি থাকবে। বিশেষ করে তিনি নোয়াখালীর আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিদেশি ক্রিকেটারদের কাছে তুলে ধরতে চান—যা তার ব্যক্তিগতভাবে খুবই গর্বের একটি কাজ বলে মন্তব্য করেন। পলাশ বলেন, নোয়াখালীর ভাষা ও সংস্কৃতি ব্যবহার করেই তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, আর সেই নোয়াখালীকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত হবে।
অন্যদিকে, নোয়াখালী এক্সপ্রেস দল গঠনের ক্ষেত্রেও বেশ চমক দেখিয়েছে। অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান দেশি ক্রিকেটারদের পাশে তারা দলে নিয়েছে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকাকেও। দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌম্য সরকার, হাসান মাহমুদ, হাবিবুর রহমান সোহান, জাকের আলী অনিক, শাহাদাত হোসেন দিপু ও রেজাউর রহমান রাজার মতো ক্রিকেটাররা দলকে শক্তিশালী ভিত্তি দেবে। বিদেশিদের মধ্যে দলে রয়েছেন আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী, শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভয়ংকর ব্যাটার জনসন চার্লস—যারা টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেকোনো দলের জন্য বড় সম্পদ।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পূর্ণ স্কোয়াডে আরও রয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মুশফিক হাসান, নাজমুল ইসলাম অপু, মেহেদী হাসান রানা, সৈকত আলী, সাব্বির হোসেন, রহমতউল্লাহ আলী, ইহসানউল্লাহ খান ও হায়দার আলীসহ মোট ২০ জন খেলোয়াড়। দলটির ব্যবস্থাপনা ও কোচিং স্টাফও বেশ অভিজ্ঞ, যা নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়েও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করবে।
সব মিলিয়ে, নোয়াখালী এক্সপ্রেস শুধু একটি নতুন দল নয়—এটি নোয়াখালীর মানুষের স্বপ্ন, আবেগ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক প্রতীক। পলাশকে কেন্দ্র করে তাদের ব্র্যান্ডিং আরও শক্তিশালী হয়েছে, আর মাঠে তারকা খেলোয়াড়দের সমন্বয় দলটিকে এক সম্ভাবনাময় শক্তিতে পরিণত করেছে। প্রথমবার বিপিএলে নেমেই নোয়াখালী এক্সপ্রেস যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।



