ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দিনটি মুসলমানদের জন্য ‘সাপ্তাহিক ঈদ’। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের অনেক ফজিলত ও আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এই দিনটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল পালন করেছেন। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করলেই একজন মুমিন মুসলিম জুমার দিনের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করতে পারেন।
আসুন জেনে নিই জুমার দিনের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল—
🔹 ১. গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:
জুমার দিনে গোসল করা রাসুল (সা.)-এর একটি সুন্নাহ। এই দিনে পবিত্র হয়ে সুগন্ধি ব্যবহার করে সুন্দর পোশাকে মসজিদে যাওয়া উত্তম। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
🔹 ২. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া:
যত আগে মসজিদে যাবেন, তত বেশি সওয়াব। আগে গেলে উট কোরবানির সওয়াব, পরে গেলে গরু, ছাগল, মুরগি এমনকি ডিম সদকার সমপরিমাণ সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)
🔹 ৩. খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা:
ইমাম যখন খুতবা শুরু করবেন, তখন কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে শোনা ফরজ। খুতবার সময় নড়াচড়া, ফিসফাস, এমনকি অন্যকে চুপ করতে বলাও নিষেধ।
🔹 ৪. জুমার নামাজ আদায়:
জুমার নামাজ ফরজ। কেউ যদি তা যথাযথভাবে আদায় করে, তাহলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (মুসলিম, হাদিস: ২৩৩)
🔹 ৫. সুরা কাহাফ তেলাওয়াত:
রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যকার সময় আলোকিত হয়ে যায় এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। (মুসতাদরাক, ২/৩৯৯)
🔹 ৬. দরুদ শরিফ পাঠ:
এই দিনে বেশি বেশি রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
🔹 ৭. দোয়া কবুলের মুহূর্ত:
জুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, যখন বান্দা যা দোয়া করবে আল্লাহ কবুল করবেন। হাদিসে এসেছে, এই মুহূর্তটি আসরের পরের সময়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
🔹 ৮. অতিরিক্ত নফল নামাজ ও ইবাদত:
ফরজ নামাজ ছাড়াও জুমার দিনে বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার করা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ।



