চতুর্থ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ব্রাজিলের মহাতারকা
নেইমার জুনিয়র–এর চোখে তখন অশ্রু, মুখে স্বস্তির হাসি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, ভয়াবহ ইনজুরি এবং কঠিন পুনর্বাসনের পথ পেরিয়ে অবশেষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের নাম শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই সুপারস্টার। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের পাশে বসে স্কোয়াড ঘোষণার মুহূর্ত দেখছিলেন তিনি। নিজের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের মানসিক চাপ ও সংগ্রামের পর যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নেইমার। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন,
“এটি আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন ও আনন্দের দিনগুলোর একটি। সবাইকে ধন্যবাদ।”
ইনজুরি থেকে ফিরে আসার অসাধারণ লড়াই
২০২৩ সালের অক্টোবরে ভয়াবহ এসিএল ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে হয়তো আর আগের সেই নেইমারকে দেখা যাবে না। প্রায় এক বছরের দীর্ঘ পুনর্বাসন, কঠোর ফিটনেস ট্রেনিং এবং মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে আবারও প্রস্তুত করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “শুধু তারকা খ্যাতির কারণে কাউকে দলে নেওয়া হবে না।” তার এমন বক্তব্যের পর থেকেই নেইমারের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা।
তবে সব সংশয় দূর করে শেষ পর্যন্ত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। জাতীয় দলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমার এখন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায়।
সমালোচনার মাঝেও কোচের পূর্ণ আস্থা
নেইমারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কয়েকজন তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে ইনজুরি থেকে সদ্য ফেরা নেইমারকে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
তবে কোচ আনচেলত্তি নিজের অবস্থানে অনড়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“নেইমারের ফিটনেস অনেক উন্নতি করেছে। বড় টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা তাকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এক মিনিট খেলুক কিংবা পুরো ম্যাচ—সে দলকে সাহায্য করতে পারবে।”
আনচেলত্তির মতে, বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বগুণই নেইমারকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
ব্রাজিলের সামনে নতুন স্বপ্ন
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল এবার বিশ্বকাপে নামছে ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে। আর সেই স্বপ্নপূরণের অন্যতম বড় ভরসা হতে পারেন নেইমার।
আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এর আগে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা।
এখন ফুটবল বিশ্বের একটাই প্রশ্ন—এটাই কি নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ, নাকি এখান থেকেই শুরু হবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়?



