লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের (৩নং ওয়ার্ড) কাতারপ্রবাসী মোঃ রফিক (২৬) আর নেই। বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৬ জুন) দিবাগত রাতে কাতারের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রফিক ছিলেন জমজ দুই ভাইয়ের একজন। বড় ভাই মোঃ মমিন হোসেনের সঙ্গে রফিকও ছোটবেলায় বাবাকে হারান। তাদের মা রৌশন আরা কঠিন জীবনসংগ্রামে একা দুই ছেলেকে মানুষ করেন। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে এই বিধবা মা সন্তানদের মানুষ করতে দিনরাত কষ্ট করেছেন। শত দারিদ্র্যের মাঝেও তিনি দমে যাননি। নিজের সম্ভ্রমের মতো রক্ষা করেছেন সন্তানদের ভবিষ্যত স্বপ্ন।
অভাবের তাড়নায় রফিককে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে অনেক ঋণ করতে হয় পরিবারকে। মা রৌশন আরা নিজের সব স্বপ্ন আর কষ্ট বুকের ভেতরে চেপে রেখে ছেলেকে কাতারে পাঠান। আশা ছিল—একদিন এই রফিকই হবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ভরসা। কাতারে গিয়ে রফিক একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতেও রাখছিলেন অবদান।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, হঠাৎ করেই সব থেমে গেল। রফিকের অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাকে কাতারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মা রৌশন আরা ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন। বুকফাটা কান্না থামছে না তার। সন্তান হারানোর বেদনায় তিনি প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখনো সন্তানকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ছটফট করছেন তিনি।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী সপ্তাহেই রফিকের মরদেহ দেশে আনা হবে। নয়নপুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
এই ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের নয়—হাজারো দরিদ্র পরিবারের কষ্টের প্রতিচ্ছবি। রেমিট্যান্স যোদ্ধা রফিকের মৃত্যু প্রমাণ করে, অভাব-অনটনের এই জীবন সংগ্রামে প্রবাসেও নিশ্চিত নয় কারও ভবিষ্যৎ।



