আজ ৮ জিলহজ, মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ—পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ বছর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮৭ হাজার ১৫৭ জন হজযাত্রী।
মিনায় পৌঁছে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও পরদিন ফজরের নামাজ আদায় করা সুন্নাত। সেখানে রাত যাপনও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
হজের ধারাবাহিক কার্যক্রম:
৯ জিলহজ (ইয়াওমুল আরাফা):
হজের দ্বিতীয় দিন। ফজরের নামাজ মিনায় পড়ে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে যান। দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান ফরজ এবং এ সময় দোয়া ও ইস্তেগফারে মনোযোগ দেওয়া ওয়াজিব।
সূর্যাস্তের পর:
মাগরিব নামাজ না পড়ে মুজদালিফার দিকে যাত্রা করা হয়। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে এশার ওয়াক্তে আদায় ওয়াজিব। রাত যাপন সুন্নাত, এবং সুবহে সাদিক থেকে সকাল পর্যন্ত সেখানে থাকা ওয়াজিব।

১০ জিলহজ (হজের তৃতীয় দিন):
হজের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন।
- মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে বড় শয়তানে ৭টি পাথর নিক্ষেপ ওয়াজিব
- কোরবানি করা (তামাত্তু ও কিরান হজকারীদের জন্য ওয়াজিব)
- মাথা মুন্ডানো বা চুল কাটা ওয়াজিব
- এরপর মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত (ফরজ) ও সাঈ আদায়
- মিনায় ফিরে রাত যাপন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা
১১ ও ১২ জিলহজ:
প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ ওয়াজিব। পাথর নিক্ষেপের উত্তম সময় দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। সূর্যাস্তের পরে নিক্ষেপ মাকরূহ, তবে নারীদের ও দুর্বলদের জন্য অনুমোদিত। ১২ তারিখে সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করলে ১৩ তারিখে রমি করা জরুরি নয়, তবে থেকে গেলে তা ওয়াজিব।
বিদায়ী তাওয়াফ:
যারা মিকাতের বাইরে থেকে এসেছেন, তাদের জন্য বিদায়ের আগে তাওয়াফে বিদা আদায় করা ওয়াজিব।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের তথ্য:
এবার ৮৭,১৫৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন:
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে: ৪২,৪০৪ জন
- সৌদি এয়ারলাইন্সে: ৩১,৬৭৬ জন
- ফ্লাইনাসে: ১৩,০৭৭ জন
এ পর্যন্ত হজ মৌসুমে ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ ও একজন নারী। সর্বশেষ মৃত্যু হয়েছে নীলফামারীর মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৯)-এর, যিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।
আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে কবুলকৃত হজের সৌভাগ্য দান করেন এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনেন—আমিন।



