Homeজাতীয়হাতিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি, লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি

হাতিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি, লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সদ্য নির্মিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময়েও বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে সন্ধ্যার পর থেকে হাতিয়া উপজেলা সদর ও চখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ এলে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ জানান, কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসেও বিদ্যুৎ না থাকায় তারা হতবাক হয়ে ফিরে যান।

সরকার হাতিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। উপজেলার হরেন্দ্র মার্কেট এলাকায় ১৬ একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৬৮ কোটি টাকা। ‘হাতিয়া, নিঝুমদ্বীপ ও কুতুবদিয়ায় শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতায়ন’ নামে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সরকার নিয়ন্ত্রণ করলেও উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশ এনার্জি নামে একটি বেসরকারি কোম্পানিকে।

হাতিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইব্রাহীম বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর পাঁচ দিন আগ থেকেই লোডশেডিং চলছে। প্রতিদিন সকাল-বিকেল ও গভীর রাত—সব সময় বিদ্যুৎ যায়। এতে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা একেবারে বন্ধ হওয়ার জোগাড়।”

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, “আমাদের অফিসেও বিদ্যুৎ থাকে না। আমরা নিজেই ভুক্তভোগী। ইঞ্জিন বন্ধ করা বা চালু করা পুরোটাই দেশ এনার্জির হাতে। তারা যখন ইচ্ছা ইঞ্জিন বন্ধ করে, আবার চালায়। এতে জনগণ আমাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের শুরুতে ৫ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি হয়েছিল, তখন গ্রাহকের চাহিদা ছিল মাত্র দেড় হাজার কিলোওয়াট। এখন চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন বাড়েনি। অতিরিক্ত লোড দেখিয়ে দেশ এনার্জি বারবার ইঞ্জিন বন্ধ করছে।”

অন্যদিকে, দেশ এনার্জি কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি মাহফুজ রহমান জানান, “গত কয়েকদিন আমাদের জ্বালানি তেলের সংকট ছিল। এখন তেল এসেছে। পাশাপাশি একটি ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, যা এক-দুই দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।” তিনি দাবি করেন, “লোডশেডিং কেবল তাদের একার কারণে হয় না।”

বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিলেও মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এই সংকট দ্বীপবাসীর মধ্যে হতাশা ছড়িয়েছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

spot_img