নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার একটি মাদ্রাসা থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাটরা আল মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া মাখছুদুল উলুম মাদ্রাসা থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম নাজিম উদ্দিন (১৩)। সে চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহর ছেলে। নাজিম মাদ্রাসাটির হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসায় থেকে পড়ালেখা করছিলেন।

ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা শেষে কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। সেই কক্ষে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী ছিল। গভীর রাতে, আনুমানিক রাত তিনটার দিকে, হঠাৎ একজন শিক্ষার্থী গোঙানির শব্দ শুনে জেগে ওঠে। এরপর অন্যরাও জেগে যায় এবং কক্ষের বাতি জ্বালিয়ে দেখে, নাজিম উদ্দিন রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে—তার গলা কাটা। তৎক্ষণাৎ মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পরে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
সন্দেহভাজন সহপাঠী আটক
পুলিশ জানায়, তদন্তের সময় লাশের পাশে রক্তমাখা হাতের ছাপ দেখা যায়। একই সঙ্গে কক্ষে থাকা এক শিক্ষার্থীকে (বয়স ১৬) অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়—সে কাঁপছিল ও কথাবার্তায় অসংলগ্ন ছিল। এতে সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে নেয়। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদ আলম বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক শিক্ষার্থীর সঙ্গে নাজিমের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ‘টুপি পরা’ নিয়ে তুচ্ছ বিষয়ের জেরে ঝগড়া হয়েছিল। মাদ্রাসার শিক্ষকরা তখন বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও ছেলেটি মনের ভেতর ক্ষোভ পুষে রেখেছিল।” ওসি আরও বলেন, “সেই ক্ষোভ থেকেই সে পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় বাজার থেকে ৩০০ টাকায় একটি ছুরি কিনে মাদ্রাসার কক্ষে লুকিয়ে রাখে। পরে গতরাতে অন্যরা ঘুমিয়ে পড়লে, সে নাজিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর ছুরিটি লুকিয়ে রেখে আবার বিছানায় শুয়ে পড়ে, যেন কিছুই ঘটেনি।”
তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা
ঘটনার পর পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন। নিহত নাজিম উদ্দিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি মোরশেদ আলম বলেন, “নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে আমরা মামলা নথিভুক্ত করব। ইতিমধ্যে আটক কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”
এলাকায় শোক ও ক্ষোভ
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভের ছায়া। মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তুচ্ছ বিষয়ের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “নাজিম খুব শান্ত-ভদ্র ছেলে ছিল। সে সবসময় কোরআন পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। এমনভাবে তার জীবন শেষ হবে, এটা কল্পনাই করা যায় না। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পুলিশের তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ১৩ বছর বয়সী হিফজ শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিনকে তারই এক সহপাঠী তুচ্ছ ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে, আর পুলিশ পুরো ঘটনার পেছনে থাকা মানসিক ও সামাজিক কারণগুলোও খতিয়ে দেখছে।

আপনার ব্যবসাকে আরও দ্রুত বাড়াতে চান?
তাহলে সময় এসেছে DPBS Ads Campaign এর সাথে এগিয়ে যাওয়ার! আমরা দিচ্ছি ডেটা-ড্রিভেন ও ক্রিয়েটিভ বিজ্ঞাপন সমাধান যা আপনার ব্র্যান্ডকে পৌঁছে দেবে সঠিক গ্রাহকের কাছে, সঠিক সময়ে।
Web: dpbsonline.com



