Homeজাতীয়আ.লীগের নাশকতা রুখে দিতে নোয়াখালীতে শিবিরের প্রতিবাদী মিছিল

আ.লীগের নাশকতা রুখে দিতে নোয়াখালীতে শিবিরের প্রতিবাদী মিছিল

নোয়াখালীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগের কথিত নাশকতা, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের বড় মসজিদ মোড় থেকে শহর শাখা শিবিরের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এতে সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক কর্মী অংশ নেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বড় মসজিদ মোড়ে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। পুরো শহরজুড়ে তখন শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ, উপস্থিত স্থানীয় মানুষও নানা প্রতিক্রিয়া জানায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতের মতো আবারও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টায় নেমেছে। তারা অভিযোগ করেন, জুলাই গণহত্যার বিচারে ইচ্ছাকৃত ধীরগতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকার সুযোগে দলটি ফের নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। বক্তারা বলেন, এভাবে রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে দেশে পুনরায় রক্তপাত ও অরাজকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি ঘৃণ্য অপরাধ—যার দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার না হলে জাতি কখনও শান্তি পাবে না।

বক্তারা দাবি করেন, জুলাই সনদকে অবশ্যই আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আওয়ামী লীগের অতীত ও চলমান গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করে দলটিকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড দেশ ও ইসলামের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যা রোধ করতে হলে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো অন্যায়, দমন বা নিপীড়ন ছাত্রশিবিরকে দমিয়ে রাখতে পারবে না; তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পেছনে আওয়ামী লীগের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবই মূল কারণ। তারা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ, বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন, গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দেশকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাই তারা গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বক্তারা শেষে আহ্বান জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় দেশের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা বলেন, ছাত্রশিবির সব সময় ন্যায়, সত্য ও নীতির পক্ষে আন্দোলন করে এসেছে, এবং ভবিষ্যতেও ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। পুরো সমাবেশে উত্তেজনা, প্রতিবাদের স্লোগান এবং পরিবর্তনের আহ্বান একত্রে মিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত ও আন্দোলনমুখর পরিবেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

spot_img