বিশ্ব বায়ুদূষণ তালিকায় ১৭তম ঢাকা, মাঝারি মানের বাতাসে স্বস্তি নগরবাসীর
রাজধানী ঢাকার বাতাস আজ তুলনামূলকভাবে সহনীয় অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৭তম। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ৮২, যা ‘মাঝারি’ বা সহনীয় পর্যায়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ১৯৬, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যেখানে স্কোর ১৬৬। তৃতীয় স্থানে থাকা মিশরের রাজধানী কায়রোর স্কোর ১৫৬। এছাড়া নেপালের কাঠমান্ডু ১৫৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১২৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও বাতাসের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে ঢাকার বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং শিল্পকারখানার নির্গমন এখনো দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর পরিবেশনীতি ও বাস্তব উদ্যোগ ছাড়া এই উন্নতি স্থায়ী হবে না।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝারি মানের বাতাসও শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার, অতিরিক্ত ধুলাবালি এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিকারকর্মীদের দাবি, টেকসই নগর পরিকল্পনা, উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নগরবাসীও চায় নির্মল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা।



