চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৫২ হাজার ৩৩৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সৌদির পথে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ঢল ৫২ হাজার ছাড়াল উপস্থিতি, যা এবছর উল্লেখযোগ্য। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মোট ১৩৪টি ফ্লাইটে তারা জেদ্দা ও মদিনায় পৌঁছান।
মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে হজ হেল্প ডেস্ক। এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি), বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরবস্থ সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে। এত অসংখ্য যাত্রী সৌদির পথে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ঢল ৫২ হাজার ছাড়াল উপস্থিতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

হজ হেল্প ডেস্কের তথ্যমতে, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী পরিবহন করেছে। সংস্থাটির ৬৩টি ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৯টি ফ্লাইটে গেছেন ১৮ হাজার ৪০২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে পৌঁছেছেন আরও ৮ হাজার ৮৮৯ জন হজযাত্রী।
এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন হজযাত্রী। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪৮ হাজার ২৬৩ জন। হজ অফিস জানিয়েছে, মোট অনুমোদিত হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫০০। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। সৌদির পথে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ঢল ৫২ হাজার ছাড়াল উপস্থিতি যেন মুসল্লিদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনায় এ বছর মোট ৬৬০টি হজ এজেন্সি কাজ করছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। হজযাত্রীদের নিবন্ধন, ভিসা, আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে এসব এজেন্সি।
চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩০০১ নম্বর ওই ফ্লাইটে ছিলেন ৪১৯ জন হজযাত্রী। ফ্লাইটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ অফিস সূত্র জানিয়েছে, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, খাদ্য ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ হজ মিশন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হজযাত্রীদের সহায়তায় মেডিকেল ও প্রশাসনিক টিমও মোতায়েন করা হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ৩০ মে থেকে। আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে আগামী ৩০ জুন।
ধর্মীয় আবেগ, আধ্যাত্মিকতা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার এ যাত্রায় হাজারো বাংলাদেশি মুসল্লির সৌদি আরবে আগমন অব্যাহত থাকায় হজ মৌসুমে বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাতগুলোতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তাছাড়া, সৌদির পথে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ঢল ৫২ হাজার ছাড়াল উপস্থিতি বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এবার হজযাত্রা আরও সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



