লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ইটভাটা শ্রমিক আব্দুর রহমান ওরফে মিন্টু (৫০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযানে মামলার মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে ১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময়ে উপজেলার ২ নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডোমনন্দী এলাকার একটি ধানক্ষেতে মিন্টুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয়। নিহত মিন্টুর বাড়ি সুধারাম উপজেলা-এর চর মটুয়া এলাকায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে একটি চৌকস তদন্ত দল গঠন করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে রায়পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার দুই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. মোস্তফা ওরফে হৃদয় (২৯) এবং মো. সুমন (২৩)। তারা উভয়েই নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে নিহত মিন্টুর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি Samsung Galaxy A-15 স্মার্টফোন এবং একটি Micronex MX-55 বাটন ফোন রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত যথাযথ জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা পূর্বপরিকল্পিত কোনো সংঘাতের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।



