টানা বৃষ্টিতে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর তীব্র স্রোতে অন্তত ৮টি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এই ভাঙন শুরু হয় এবং কোথাও কোথাও নদীর পানি বেড়িবাঁধ উপচেও প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পরশুরাম সড়কও পানির নিচে চলে যাওয়ায় সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
প্লাবিত এলাকায় রাতভর চরম দুর্ভোগে কাটিয়েছেন বাসিন্দারা। অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠে গেছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গতদের জন্য ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলার দেড়পাড়া, শ্রীপুর, মুন্সিরহাট, বরইয়া ও নিলক্ষীসহ অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী বাজারে পানি ঢুকে দোকানপাট তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, পরশুরাম উপজেলার উত্তর ধনীকুন্ডা, মধ্যম ধনীকুন্ডা, রামপুর, দুর্গাপুর ও রতনপুর এলাকাও পানিতে ডুবে গেছে। পরশুরামের বল্লামুখা সীমান্তে ভারতের অংশে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বাংলাদেশ অংশে পানি ঢুকছে বলে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন জানিয়েছেন, মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে, গত দুই দিনের টানা বর্ষণে ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যদিও কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে, নিচু ঘরবাড়িগুলো এখনও বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। ফলে সাধারণ মানুষকে রাত কাটাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তির মধ্যে।



