জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আজ সোমবার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাকার সর্বত্র কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, রায়কে কেন্দ্র করে কোনো অস্থিতিশীলতা বা সহিংসতা যাতে না ঘটে, সে জন্য এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা আগের যেকোনো পরিস্থিতির তুলনায় আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাঁরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্ব পালন করছেন। রামপুরা, মগবাজার, ধানমন্ডি, শাহবাগ, উত্তরা, মিরপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে সকাল থেকেই ব্যাপক তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা, যাত্রীদের ব্যাগপত্র—কিছুই পুলিশের নজর এড়াচ্ছে না। শহরের প্রবেশপথ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।
এসব বাড়তি নিরাপত্তার ফলে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও প্রভাব পড়েছে। সাধারণ দিনের তুলনায় গণপরিবহন ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম, ফলে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচল করছেন। কর্মজীবীরা অফিসগামী পথে ধীরগতির যান চলাচল এবং তল্লাশির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ থাকা নিয়ে কিছুটা ভোগান্তির শিকার হলেও বেশির ভাগ মানুষই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এসব পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। দোকানপাট, বাজার এবং সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে; সকাল থেকেই লোকজনের উপস্থিতি সাধারণ দিনের তুলনায় কম।

ফেসবুক এডস থেকে সেলস কেন আসে না? বেশিরভাগ মানুষ সেলস চাই, কিন্তু সেলস না আসার কারণটা বুঝতে চায় না। তাহলে শুধুই এডস নয়, দরকার স্ট্র্যাটেজি + এক্সিকিউশন + ডেটা। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: dpbsonline.com https://www.facebook.com/DPBS20
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, রায় ঘোষণার দিনটিকে ঘিরে রাজধানীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও জানান, সকাল থেকে রাজধানীর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি; তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি আছে।
এর আগে, গতকাল রবিবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই দিনে দু’টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তেজগাঁও টার্মিনাল এলাকায় ট্রেনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করার সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। এসব ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজধানীতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং আজকের রায়কে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
রাজধানীর রাস্তায় আজ সকালের দৃশ্য যেন অন্য এক ঢাকার প্রতিচ্ছবি—কোথাও চলছে কড়া নিরাপত্তা নজরদারি, কোথাও জনশূন্য সড়ক, আবার কোথাও মানুষজনের মুখে উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতার ছাপ। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনের সব নজর এখন আদালতের দিকে, আর রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব কেমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে—সেটিই দেখার অপেক্ষা।



