নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপের সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় বিএনপির ছয় নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের হয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায়—একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে সৈকতের বালু উত্তোলন করে আসছিল। প্রশাসনের পূর্ব সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজারসহ সরঞ্জাম জব্দ করে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন (৫৫), সাবেক সহসভাপতি সাহেদ উদ্দিন (৪৫), এবং স্থানীয় আরও চারজন—কাশেম ওরফে রাশেল (৩০), এনায়েত হোসেন (৩০), আবদুর রহিম (২৬) ও আফছার উদ্দিন (৫০)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মিলে সৈকতের বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও পর্যটন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, “নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশ রক্ষায় যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বালু উত্তোলন চললে সমুদ্রের ঢেউয়ে সৈকতের ভাঙন বেড়ে যাবে, যা পুরো দ্বীপের বাস্তুসংস্থান ও পর্যটন শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ও সাহেদ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের নাম মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, “বালু উত্তোলনের ঘটনায় আমি জড়িত নই। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে আসামি করা হয়েছে।” একইভাবে সাহেদ উদ্দিনও বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না; তদন্ত হলেই সত্য প্রকাশ পাবে।”
এই ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, নিঝুমদ্বীপ বাংলাদেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল—এখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নয়, দ্বীপবাসীর জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো না গেলে নিঝুমদ্বীপের পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



