পটুয়াখালীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদের কিশোরী সন্তানকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুপুরে হাসপাতালে ভুক্তভোগীকে দেখতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। পরবর্তীতে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এটি শুধুমাত্র শহীদ পরিবারের সন্তান হওয়ায় নয়, বরং বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি বিচার চাই। প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “এই বর্বর ঘটনার দ্রুত বিচার হওয়া উচিত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অপরাধ দমন সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার যে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসউদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব মুজাহিদুল ইসলাম এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব জাহিদ আহসান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় মেয়েটি তার বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। পথিমধ্যে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামের সাকিব মুন্সি ও সিফাত মুন্সি তাকে অনুসরণ করে এবং একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি পরিত্যক্ত বাগানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ছবি তোলে এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর পরই সাকিব মুন্সিকে গ্রেপ্তার করা হলেও সিফাত মুন্সি এখনো পলাতক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অন্য আসামিকেও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানানো হয়েছে।



