গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুবদল থেকে আজীবন বহিষ্কৃত নেতা মাহবুব আলম। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মাহবুব আলম দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি একসময় গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৯ জুলাই তাঁকে আজীবনের জন্য যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক মনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ বাড়ির উঠানে দুটি বালতিতে দুধ নিয়ে বসে আছেন মাহবুব আলম। এ সময় একজন ব্যক্তি তাঁর মাথায় মগ দিয়ে দুধ ঢালছেন। ঘটনাস্থলে তাঁর মা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহবুব আলম বলেন, পরিবারের স্বার্থ, ব্যক্তিগত জীবন এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর কোনো দলীয় পদ না থাকায় সংগঠনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানোর সুযোগ ছিল না। তিনি আরও দাবি করেন, দল কিংবা কোনো ব্যক্তির প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ, অভিমান বা বিরূপ মনোভাব নেই। তিনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান।
এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক মনি বলেন, বিভিন্ন অভিযোগে মাহবুব আলমকে একাধিকবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রতীকী আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া শোভনীয় হয়নি। তিনি আরও জানান, এর আগের দিনও মাহবুব আলম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রচারণামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বাইরে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুধ দিয়ে গোসলের মাধ্যমে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। যদিও প্রতীকী এ কর্মসূচির তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত রয়েছে, তবুও ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।



