Homeজাতীয়সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ

সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে স্টেশনে প্রবেশের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছিল। ট্রেনটি সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলস্টেশনে প্রবেশের সময় ‘ঝ’ নম্বর কোচটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ট্রেনের জরুরি শিকল টেনে দ্রুত ট্রেনটি থামানো হয়। চালক ও রেলকর্মীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

দুর্ঘটনার পরপরই ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্টেশনে আন্তঃনগর ও অন্যান্য যাত্রীবাহী ট্রেন অপেক্ষমাণ অবস্থায় আটকা পড়ে। যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ দেখা দেয়, বিশেষ করে যাঁদের জরুরি গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজন ছিল।

যমুনা সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান জানান, সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে মোট ১৪টি বগি ছিল। দুর্ঘটনার পর সামনের চারটি বগি এবং ইঞ্জিন আলাদা করে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সয়দাবাদ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপর বগিগুলো জামতৈল স্টেশনের দিকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। একই সময়ে নীলসাগর এক্সপ্রেস সয়দাবাদ স্টেশনে অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকশী বিভাগের ঈশ্বরদী জংশন থেকে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রেন সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পর লাইনচ্যুত বগি অপসারণ, রেললাইন পরীক্ষা এবং দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রেলওয়ের প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

পাকশী বিভাগের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কী কারণে কোচটি লাইনচ্যুত হয়েছে তা তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে উল্লাপাড়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবদুল বাতেন জানান, তাঁদের স্টেশনে তখনও কোনো ট্রেন এসে পৌঁছায়নি। তবে আশপাশের একাধিক স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা উদ্ধারকাজে সহায়তা করার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর রেললাইন নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও রেলওয়ের নির্ধারিত তথ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল করিডোরে সাময়িক অচলাবস্থা সৃষ্টি হলেও দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও রেললাইন সচল করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, উদ্ধারকাজ শেষ হলেই স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

spot_img