মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে তুরস্কের ক্লাবগুলোর আগ্রহ নতুন মোড় নিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছিল, বেসিকতাসই মিসরীয় এই তারকাকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপটে এসে চমক দেখিয়েছে ট্রাবজোনস্পোর। রেকর্ড অঙ্কের বেতনের প্রস্তাব দিয়ে তারা এখন সালাহকে দলে টানার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দলবদল–সংক্রান্ত তুর্কি সাংবাদিক ইয়াগিজ সাবুনকোগলুর তথ্য অনুযায়ী, সালাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই আলোচনা করেছে ট্রাবজোনস্পোর। ক্লাবটি দুই বছরের চুক্তির পাশাপাশি বছরে ১৭ মিলিয়ন ইউরো বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে। আর্থিক দিক থেকে এটি বেসিকতাসের দেওয়া প্রস্তাবের চেয়ে অনেক বেশি।

এর আগে বেসিকতাস সালাহর সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তে সমঝোতার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল। তাদের প্রস্তাবে ছিল এক বছরের চুক্তি, সঙ্গে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ। বছরে ১০ মিলিয়ন ইউরো বেতন দিতেও রাজি ছিল ক্লাবটি। তবে ট্রাবজোনস্পোরের বড় অঙ্কের প্রস্তাব সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
তবে এখনও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি সালাহ। জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি পরবর্তী গন্তব্য ঠিক করবেন। আলোচনায় একটি বিষয় এখনও বাকি রয়েছে। সেটি হলো জার্সি বিক্রির আয়ের ভাগ। সালাহর পক্ষ থেকে জার্সি বিক্রির আয় থেকে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অংশ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছে।
ট্রাবজোনস্পোরের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা, এই চুক্তিতে কোনো ট্রান্সফার ফি দিতে হবে না। লিভারপুলের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার পর গত ১ জুলাই থেকে সালাহ ফ্রি এজেন্ট। ফলে নতুন ক্লাবের সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত শর্তে সমঝোতা হলেই চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব।
লিভারপুলে টানা নয় বছর কাটিয়েছেন সালাহ। এই সময়ে ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা। ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
গত কয়েক মৌসুমে সৌদি প্রো লিগের একাধিক ক্লাব সালাহকে দলে টানতে আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত ইউরোপেই ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসরের এই ফরোয়ার্ড। সেই কারণেই তুরস্কের ক্লাবগুলোর সঙ্গে তার আলোচনা ফুটবল অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
এখন দেখার বিষয়, ট্রাবজোনস্পোরের রেকর্ড অঙ্কের প্রস্তাব গ্রহণ করে তুরস্কেই নতুন অধ্যায় শুরু করেন কি না সালাহ। নাকি শেষ মুহূর্তে অন্য কোনো ইউরোপীয় ক্লাবই হয়ে ওঠে তার পরবর্তী ঠিকানা। দলবদলের এই লড়াইয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন ফুটবলপ্রেমীরা।



