বিশ্বকাপের আগে দুর্দান্ত ছন্দে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। এবার জোড়া গোল করে ইন্টার মায়ামিকে এনে দিলেন দারুণ এক জয়। মেজর লিগ সকারের রোমাঞ্চকর ম্যাচে সিনসিনাটির মাঠে ৫–৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মায়ামি, আর পুরো ম্যাচজুড়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মেসি। গোল করার পাশাপাশি আরও দুটি গোলে অবদান রেখে দলের আক্রমণভাগকে একাই নেতৃত্ব দেন তিনি। হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা পাননি, কারণ শেষ গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে গণনা করা হয়।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের ২৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল করেন মেসি। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ টিকেনি। দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪৯ মিনিটের মধ্যেই ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিনসিনাটি, ফলে ম্যাচে বাড়ে উত্তেজনা।
দলের কঠিন সময়ে আবারও সামনে আসেন মেসি। ৫৫ মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে অসাধারণ ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান তিনি। তাঁর সেই গোল ম্যাচে নতুন প্রাণ এনে দেয়। কিন্তু নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি। ৬৪ মিনিটে আবার গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে মায়ামি।

তবু হাল ছাড়েনি দলটি। আর প্রত্যাবর্তনের মূল নায়ক ছিলেন মেসিই। ৭৯ মিনিটে তাঁর নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন মাতেও সিলভেত্তি। এরপর ৮৪ মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন গেরমান বেরতেরামে, ফলে আবারও এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি।
ম্যাচের শেষ দিকে মেসির নেওয়া শট পোস্টে লেগে গোলরক্ষকের গায়ে স্পর্শ করে জালে জড়ায়। শুরুতে সেটি মেসির গোল হিসেবে ধরা হলেও পরে আত্মঘাতী গোল হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ফলে হ্যাটট্রিক না পেলেও আক্রমণ তৈরির পুরো কৃতিত্ব ছিল তাঁরই।
সব মিলিয়ে ম্যাচে চারটি গোলে সরাসরি অবদান রাখেন মেসি। শেষ তিন ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন চার, সঙ্গে রয়েছে আরও চারটি অ্যাসিস্ট। বয়স বাড়লেও মাঠে তাঁর প্রভাব যে এতটুকু কমেনি, সেটাই আবার প্রমাণ করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়ে ১৪ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও চারটি গোল। এমএলএসে ১২ ম্যাচে তাঁর গোল এখন ১১টি।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি। ১৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২৫ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল এসসি। শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল মায়ামি।
ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রামে মেসি লেখেন, “প্রতিপক্ষের মাঠে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয়।” পোস্টের সঙ্গে তিনি দলের উদ্যাপনের কয়েকটি ছবিও শেয়ার করেন। তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বড় স্বস্তির কারণ।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ, যার আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। বিশ্বকাপের আগে মেসির এমন ফর্ম নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে লিওনেল স্কালোনিকে। আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন এবারও অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের অধিনায়কের ওপর। আর মেসি যেভাবে মাঠ মাতাচ্ছেন, তাতে ফুটবলপ্রেমীরা আবারও এক জাদুকরী বিশ্বকাপের অপেক্ষায়।



